প্রকাশিত: জানুয়ারি ১০, ২০২৬
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দেশজুড়ে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ‘দাঙ্গাবাজ’ হিসেবে অভিহিত করে দাবি করেছেন, তারা কেবল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খুশি করার চেষ্টা করছে।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে ৮৬ বছর বয়সি এই নেতা অত্যন্ত কঠোর মনোভাব ব্যক্ত করে বলেন, কয়েক লক্ষ মানুষের রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত এই ইসলামি প্রজাতন্ত্র কোনোভাবেই দাঙ্গাবাজদের সামনে পিছু হটবে না। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন যে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ইরান বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না। খবর বিবিসির।
এদিকে বিক্ষোভের ১৩তম দিনে পরিস্থিতি আরও সংঘাতময় হয়ে উঠেছে। ইরানের নিরাপত্তা ও বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষগুলো বিক্ষোভকারীদের ‘সশস্ত্র দুষ্কৃতকারী’ ও ‘শান্তি বিঘ্নকারী’ আখ্যা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
দেশটির নিরাপত্তা পরিষদ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে সামরিক বা সরকারি স্থাপনায় যেকোনো ধরনের হামলার কড়া জবাব দেওয়া হবে। অন্যদিকে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ইরান অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র উসকানি ও প্ররোচনার মাধ্যমে তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে সহিংস ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে রূপান্তর করছে।
বিক্ষোভের বর্তমান চিত্র তুলে ধরে মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৮ জন বিক্ষোভকারী এবং ১৪ জন নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছেন। কোনো কোনো সংস্থার মতে নিহতের সংখ্যা আরও বেশি, যার মধ্যে শিশুও রয়েছে। এ পর্যন্ত দুই হাজার দুই শতাধিক মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা প্রায় বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের বলেছেন, ইরান বর্তমানে বড় সংকটে রয়েছে এবং পরিস্থিতি যদি আরও খারাপ হয় তবে ওয়াশিংটন কঠোর ব্যবস্থা নেবে। তবে তিনি সরাসরি সেনা পাঠানোর বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক মহলেও এই অস্থিরতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির শীর্ষ নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন।
জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিকও প্রাণহানির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, প্রতিবাদ করার অধিকার বিশ্বের সব মানুষেরই আছে।
এরই মধ্যে ইরানের সাবেক শাহের পুত্র রেজা পাহলভি মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে জরুরি হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন, যদিও ইরান সরকার একে দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবে দেখছে।