ইরানে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট রুখে দিচ্ছে মাস্কের স্টারলিংক!

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৩, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

দেশজুড়ে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট বা সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকার পরও ইরানের কিছু মানুষ এখনও ইলন মাস্কের স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যবহার করছেন বলে, ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন দেশটির অভ্যন্তরে থাকা তিন ব্যক্তি। বিশ্ব রাজনীতির অস্থির অঞ্চলগুলোতে ইন্টারনেট শাটডাউন মোকাবিলায় স্টারলিংক ব্যবহারের এটি সবশেষ উদাহরণ।ইরানি কর্তৃপক্ষ সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দেশব্যাপী বিক্ষোভ দমনে প্রাণঘাতী অভিযান শুরু করেছে, যার অংশ হিসেবে ফাইবার অপটিক ক্যাবল এবং মোবাইল টাওয়ারের মাধ্যমে সরবরাহকৃত ইন্টারনেট পরিষেবা প্রায় পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। দেশটিতে ইন্টারনেটের এই ব্লাক আউট ১৯০ ঘন্টা পর করেছে।

তবে স্টারলিংক, যা সরাসরি হাজার হাজার নিম্ন-কক্ষপথের স্যাটেলাইট থেকে সিগন্যাল পাঠায়, তা ইরানের কিছু স্থানে এখনও কাজ করছে- যদিও দেশটিতে এই পরিষেবা নিষিদ্ধ। রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ইরানে স্টারলিংক ব্যবহারকারী তিন ব্যক্তি।পশ্চিম ইরানের এক ব্যবহারকারী জানান, তিনি কয়েক ডজন মানুষকে স্টারলিংক ব্যবহার করতে দেখেছেন এবং সীমান্ত সংলগ্ন শহর ও নগরগুলোতে ব্যবহারকারীরা মূলত নিরবচ্ছিন্ন সেবা পাচ্ছেন।

ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘নেটব্লকস’-এর প্রতিষ্ঠাতা আল্প টোকার জানান, তিনি ওই অঞ্চলের মানুষের কাছ থেকে শুনেছেন যে, ইরানে এখনও স্টারলিংক ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে, যদিও পরিষেবার গতি আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে বলে মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলেও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।টোকার আরও জানান, গত ৮ জানুয়ারি থেকে ইরানে যে ব্যাপক ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট শুরু হয়েছে তা সোমবারও অব্যাহত ছিল। নেটব্লকসের ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, দেশটিতে ফিক্সড-লাইন এবং মোবাইল ইন্টারনেট সংযোগ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় মাত্র এক শতাংশে নেমে এসেছে।

ইরানে ঠিক কীভাবে স্টারলিংক পরিষেবা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে তা স্পষ্ট নয়। তবে কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, সিগন্যাল জ্যামিংয়ের মাধ্যমে স্টারলিংক টার্মিনালগুলোর স্যাটেলাইট সিগন্যাল গ্রহণের ক্ষমতা নষ্ট করার চেষ্টা করা হতে পারে। স্পেসএক্সের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান স্টারলিংক এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে কোনো সাড়া দেয়নি।

ফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় সোমবার ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ইরান এই অস্থিরতার জন্য ‘সন্ত্রাসীদের’ দায়ী করেছে এবং শাসনব্যবস্থা রক্ষায় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।বৈশ্বিক সংঘাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার

ইরানের কিছু বিক্ষোভকারীর জন্য স্টারলিংক যে যোগাযোগের পথ খুলে দিয়েছে, তা বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সংঘাত ও অস্থিরতায় মাস্ক এবং তার স্যাটেলাইট পরিষেবার ক্রমবর্ধমান প্রভাবের আরেকটি বড় প্রমাণ।

২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ আক্রমণের পর থেকে ইউক্রেনীয় বাহিনীর জন্য স্টারলিংক একটি অপরিহার্য হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে। মিয়ানমারে সামরিক জান্তা বারবার ইন্টারনেট বন্ধ করে দিলেও বিদ্রোহী গোষ্ঠী, ত্রাণ সংস্থা এবং চিকিৎসকরা যোগাযোগের জন্য স্টারলিংক ব্যবহার করেছেন। সুদানেও দীর্ঘস্থায়ী ব্ল্যাকআউটের কারণে গৃহযুদ্ধের দুই পক্ষই স্টারলিংক ব্যবহার করেছে।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত রোববার বলেছেন, তিনি ইরানে ইন্টারনেট ব্যবস্থা পুনঃস্থাপনের বিষয়ে মাস্কের সঙ্গে কথা বলার পরিকল্পনা করছেন, যদিও তিনি সরাসরি স্টারলিংকের নাম উল্লেখ করেননি।

মাস্ক এর আগে ইউক্রেনে ল্যাপটপের চেয়ে কিছুটা বড় আকারের স্টারলিংক টার্মিনাল বিনামূল্যে পাঠিয়েছিলেন এবং সেখানে ফ্রি ইন্টারনেট পরিষেবা দিয়েছিলেন। একটি স্ট্যান্ডার্ড স্টারলিংক টার্মিনালের দাম প্রায় ৫৯৯ ডলার এবং এর সাথে মাসিক ফি যোগ হয়, যা অনেক ইরানির জন্য বেশ ব্যয়বহুল।

২০২২ সালে ইউক্রেন যখন রাশিয়ার কাছ থেকে ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার করছিল, তখন মাস্ক স্টারলিংক বন্ধ করে দিয়ে যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেয়ার ক্ষমতা দেখান বলে ইতিপূর্বে রয়টার্স প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।ইরানে স্টারলিংক পরিচালনার লাইসেন্স নেই, তবে মাস্ক এর আগে বলেছিলেন, সেখানে এই পরিষেবা সক্রিয় রয়েছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে তিনি এক্সে লিখেছিলেন, ইরানে প্রায় ১০০টি স্টারলিংক সক্রিয় রয়েছে, যদিও ইরানের ৯ কোটি ২০ লাখ জনসংখ্যার তুলনায় এই সংখ্যা খুবই সামান্য।

গত বছরের জুনে এক্সে এক ব্যবহারকারী ইরানে স্টারলিংক চালুর অনুরোধ করলে মাস্ক উত্তর দিয়েছিলেন, ‘বিমস আর অন’ (সিগন্যাল চালু করা হয়েছে)।

জুন মাসে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধের পর ইরানের পার্লামেন্ট আনুষ্ঠানিকভাবে স্টারলিংক ব্যবহার নিষিদ্ধ করে একটি আইন পাস করে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, লাইসেন্সবিহীন এই প্রযুক্তি ব্যবহার বা বিতরণকারীদের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
ns coll

  • শেয়ার করুন