নীরবে মার্কিন ডাল আমদানিতে ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল ভারত

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৮, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত উচ্চ শুল্কের জবাবে অত্যন্ত কৌশলী ও নীরব পদক্ষেপ হিসেবে ডাল আমদানিতে ৩০ শতাংশ পালটা শুল্ক আরোপ করেছে ভারত সরকার। বিশ্ববাজারে ডালের বৃহত্তম ভোক্তা দেশ হিসেবে ভারতের এই সিদ্ধান্ত মার্কিন কৃষকদের ওপর এক বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।গত বছরের ৩০ অক্টোবর ভারত সরকার হঠাৎ করে এই ৩০ শতাংশ শুল্কের ঘোষণা দেয়, যা ১ নভেম্বর ২০২৫ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে। যদিও ভারত সরকার বিষয়টিকে খুবই একটা ছোট পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছে, তবে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা এটিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগের মেয়াদের উচ্চ শুল্ক নীতির একটি নীরব কিন্তু শক্তিশালী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। এ ঘটনাটি ২০২৫ সালের শুরুর দিকেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কের এই ক্রমবর্ধমান টানাপোড়েনের চিত্র ফুটে উঠেছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি ও শস্য খাতের দায়িত্বে থাকা দুটি বড় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ভারতের এই নতুন শুল্ক কাঠামোর কারণে তারা বড় ধরনের প্রতিযোগিতামূলক অসুবিধার মুখে পড়েছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিমন্ত্রী টম ভিলসাক এবং বাণিজ্য প্রতিনিধি ক্যাথরিন তাই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একটি জরুরি চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে তারা উল্লেখ করেছেন, ভারতের এই উচ্চ শুল্ক আরোপের ফলে মার্কিন কৃষক ও রপ্তানিকারকদের ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তারা দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান দাবি করেছেন।

উল্লেখ্য, গত বছর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত উচ্চ শুল্ক আরোপের পর দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের অবনতি ঘটে। তবে সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্তে ভারত কৃষিপণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশ আরও কঠিন করে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ভারত বর্তমানে বিশ্বের মোট চাল উৎপাদনের প্রায় ২৭ শতাংশ যোগান করে থাকে, যার মধ্যে মসুর, ছোলা ও অন্যান্য শস্য অন্তর্ভুক্ত। ভারতের অভ্যন্তরীণ কৃষক সুরক্ষার চাপের মুখে এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে বলে সরকারিভাবে জানানো হয়েছে। বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৫ সালের এই সিদ্ধান্ত কেবল দুই দেশের সম্পর্কেই নয়, বরং বৈশ্বিক বাজারের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

  • শেয়ার করুন