খুলনা বিভাগে ৩৫ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২১, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে খুলনা বিভাগের ১০টি জেলার ৩৬টি সংসদীয় আসনে ভোটের চূড়ান্ত সমীকরণ নির্ধারিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে বিভাগের বিভিন্ন আসন থেকে ৩৫ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। ফলে এখন ২০১ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।

খুলনা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি ৫ জন করে প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন খুলনা, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলায়। এছাড়া বাগেরহাটে ৬ জন, সাতক্ষীরা, যশোর ও নড়াইলে ৩ জন করে এবং মাগুরা ও ঝিনাইদহে ২ জন করে প্রার্থী ভোটের মাঠ ছেড়েছেন। মেহেরপুর-১ আসন থেকেও একজন প্রার্থী তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন।প্রত্যাহারকারীদের মধ্যে বড় একটি অংশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এবি পার্টি এবং এনসিপি-র নেতা। এছাড়া বেশ কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

খুলনার প্রত্যাহারকারী ৫ প্রার্থী হলেন, খুলনা-১ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ফিরোজুল ইসলাম, খুলনা-২ আসনে খেলাফত মজলিসের শহিদুল ইসলাম, খুলনা-৩ আসনে খেলাফত মজলিসের এফএম হারুন অর রশীদ, খুলনা-৪ আসনে জামায়াতের কবিরুল ইসলাম ও খুলনা-৫ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আব্দুল কাইউম জমাদ্দার।

সাতক্ষীরা জেলার প্রত্যাহার করা ৩ জন হলেন, সাতক্ষীরা-২ আসনে এবি পার্টি’র জিএম সালাউদ্দীন, এলডিপি’র শফিকুল ইসলাম শাহেদ ও সাতক্ষীরা-৪ আসনে গণঅধিকার পরিষদের এইচ এম গোলাম রেজা।বাগেরহাট জেলার ৬ জন প্রত্যাহার করেছেন। তারা হলেন, বাগেরহাট-১ আসনের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, বাগেরহাট-২ স্বতন্ত্র এম এ সালাম, খেলাফত মজলিসের নাছের ইকবাল ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রমিজ উদ্দীন, বাগেরহাট-৩ এ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. জুলফিকার হোসেন ও এনসিপির মো. রহমাতুল্লাহ।

যশোর জেলায় ৩ জন প্রত্যাহার করেছেন। তারা হচ্ছেন- যশোর-১ এ স্বতন্ত্র আবুল হাসান জহির, যশোর-৩ এ এনসিপির খালেদ সাইফুল্লাহ ও যশোর-৪ এ স্বতন্ত্র ফারহান সাজিদ।

নড়াইল জেলায় ৩ জন প্রত্যাহার করেছেন। তারা হচ্ছেন- নড়াইল-১ এ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আব্দুর রহমান, স্বতন্ত্র গাজী মাহাবুবুর রহমান ও নড়াইল-২ এ খেলাফত মজলিসের আব্দুল হান্নান সরদার।মাগুরা জেলায় ২ জন প্রত্যাহার করেছেন। তারা হচ্ছেন- মাগুরা-১ এ খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ ফয়জুল ইসলাম ও গণফোরামের মোঃ মিজানুর রহমান।

ঝিনাইদহ জেলায় ২ জন প্রত্যাহার করেছেন। তারা হচ্ছেন- ঝিনাইদহ-১ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আসাদুজ্জামান ও ঝিনাইদহ-৩ এ এবি পার্টির মুজাহিদুল ইসলম।

চুয়াডাঙ্গা জেলায় প্রত্যাহার করেছেন ৫ জন। তারা হচ্ছেন- চুয়াডাঙ্গা-১ এ এবি পার্টির আব্দুল্লাহ আল মামুন, এনসিপির মোল্লা ফারুক এহসান, ইসলামী আন্দোলনের হাসানুজ্জামান, চুয়াডাঙ্গা-২ এ এবি পার্টির আলমগীর হোসেন ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের নুর হাকিম।

কুষ্টিয়া জেলায় প্রত্যাহার করেছেন ৫ জন। তারা হচ্ছেন কুষ্টিয়া-২ এ বাংলাদেশ ফেলাফত মজলিসের আরিফুজ্জামান, খেলাফত মজলিসের আব্দুল হামিদ, কুষ্টিয়া-৩ এ খেলাফত মজলিসের সিরাজুল হক, কুষ্টিয়া-৪ এ এবি পার্টির আবু বক্কর সিদ্দিক ও স্বতন্ত্র শেখ সাদী।এছাড়া মেহেরপুর-১ আসনে এনসিপির সোহেল রানা।

মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের পর এখন খুলনা-১ আসনে সর্বোচ্চ ১২ জন এবং খুলনা-২, চুয়াডাঙ্গা-১, ২ ও মেহেরপুর-২ আসনের মতো জায়গাগুলোতে সর্বনিম্ন ৩ জন করে প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিভাগের ৩৬টি আসনে গড়ে ৫ থেকে ৮ জন করে প্রার্থী চূড়ান্ত লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন।

তফসিল অনুযায়ী, আজ ২১ জানুয়ারি প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। প্রতীক পাওয়ার পর থেকেই প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার-প্রচারণা শুরু করতে পারবেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

খুলনা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা জানান, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে এবং প্রতীক বরাদ্দের পর আচরণবিধি প্রতিপালনে কঠোর নজরদারি রাখা হবে।
ns coll

  • শেয়ার করুন