বিএনপির ৭২ বিদ্রোহীর ৭১ জন বহিষ্কার

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২২, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, বিএনপিতে প্রার্থিতা নিয়ে উত্তেজনা ততই বাড়ছে। প্রতিপক্ষের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি নিজ দলের স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থীদেরও মোকাবিলা করতে হচ্ছে দলটিকে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও ৬২টি আসনে দলের ৭২ বিদ্রোহী স্বতন্ত্র হিসেবে মাঠে রয়েছেন। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে নির্বাচন করায় ইতোমধ্যে ৭১ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অন্য একজনের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এমনকি এই প্রার্থীদের সঙ্গে মাঠে থাকলে দলের নেতাকর্মীদের বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

বেশ কয়েকটি আসনে দল-মনোনীত প্রার্থীর পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। এতে ঘরেবাইরে বহুমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পড়তে যাচ্ছেন ধানের শীষের প্রার্থীরা।এ বিষয়ে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন গতকাল বুধবার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘বিএনপি বড় দল। এখানে অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা থাকবে। কিন্তু একটি আসনে একজনের বেশি মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব হয় না। অনেক আসনে অনেক প্রার্থী রয়েছেন। এ নিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে আলোচনা করা হবে। তারপরও যদি কেউ প্রার্থী থাকেন অবশ্যই দল থেকে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ঢাকা-৭ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হামিদুর রহমানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার। ঢাকা-১২ আসন জোট শরিক বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হককে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু যুবদলের সাবেক সভাপতি ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম নীরব স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। ইতোমধ্যে দল থেকে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

ঢাকা-১৪ আসনে দারুস সালাম থানা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক (সাজু) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন স্বতন্ত্র হিসেবে। এ আসনে বিএনপি প্রার্থী করেছে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলামকে (তুলি)। সাজুকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম-১৪ চন্দনাইশে বিএনপির প্রার্থী জসিম উদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি শফিকুল ইসলাম রাহী। তাঁকেও বহিষ্কার করা হয়েছে। চট্টগ্রাম-১৬ আসনে মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও দল থেকে বহিষ্কৃত লেয়াকত আলী।
সিলেট-৫ আসনে সমঝোতায় বিএনপির সমর্থন পেয়েছেন শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় সভাপতি উবায়দুল্লাহ ফারুক। এখানে কেন্দ্রের নির্দেশ অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি মামুনুর রশীদ (চাকসু মামুন)। তাঁকেও বহিষ্কার করা হয়েছে।

নাটোর-১ আসনে বিএনপির ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুলের বিরুদ্ধে তাঁর আপন ভাই ডা. ইয়াসিন আরশাদ রাজন ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সহদপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। দুজনকেই দল বহিষ্কার করেছে। নাটোর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনুর বিরুদ্ধে দাউদার মাহমুদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী উপজেলা বিএনপির সভাপতি এমএ হান্নান। জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি কামরুজ্জামান মামুন এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের মনোনীত প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহসভাপতি জুনায়েদ আল হাবিব। বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা দলটির সাবেক সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য ফ্রন্টের মহাসচিব বিএনপ থেকে বহিষ্কৃত কেন্দ্রীয় নেতা এসএন তরুণ দে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মাঠে আছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনে দলের প্রার্থী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এমএ মান্নান। বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা বিএনপির অর্থনৈতিকবিষয়ক সম্পাদক কাজী নাজমুল হোসেন তাপস। তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইদুজ্জামান কামালকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে দল মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদা। এখানে স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বহিষ্কৃত নেতা শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল।
চাঁদপুর-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী দলের ব্যাংকিং ও রাজস্ববিষয়ক সম্পাদক লায়ন মো. হারুনুর রশিদ। বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ফরিদগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এমএ হান্নান। তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে। রাজবাড়ী-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. হারুন-অর-রশীদ। স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন সাবেক এমপি ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. নাসিরুল হক সাবু।মাদারীপুর-১ আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে নাদিরা আক্তারকে। এখানে প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন লাভলু সিদ্দিকী ও কামাল জামান মোল্লা। মাদারীপুর-২ আসনে দল মনোনীত প্রার্থী জাহান্দার আলী মিয়া। বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা বিএনপির সদস্য মিল্টন বৈদ্য ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সাংস্কৃতিকবিষয়ক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম খান।
হবিগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী রেজা কিবরিয়া। বিদ্রোহী প্রার্থী বহিষ্কৃত জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ সুজাত মিয়া। হবিগঞ্জ-৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সৈয়দ ফয়সল। তাঁর সঙ্গে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান চৌধুরী।

পটুয়াখালী-৩ আসন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে ছেড়ে দেয় বিএনপি। এখানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাসান মামুন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ঝিনাইদহ-৪ আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন পেয়েছেন গণঅধিকার পরিষদ থেকে সদ্য বিএনপিতে যোগদানকারী রাশেদ খান। এখানে প্রার্থী হয়েছেন একাদশ সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ। সম্প্রতি তাঁকেও দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

মৌলভীবাজার-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মুজিবুর রহমান চৌধুরী। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী শ্রীমঙ্গল পৌরসভার পাঁচবারের নির্বাচিত মেয়র ও জেলা বিএনপির সদস্য মো. মহসিন মিয়া মধু। এরই মধ্যে মধু ও তাঁর অনুসারী ১০ নেতাকর্মীকে জেলা বিএনপি অব্যাহতি দিয়েছে।

বরিশাল-১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাবেক এমপি ও চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন। বিদ্রোহী প্রার্থী দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুস সোবহানকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

কুমিল্লা-২ আসনে প্রার্থী বিএনপির কুমিল্লা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার (প্রয়াত) এপিএস এম এ মতিন খান। তাঁকে বহিষ্কার করেছে দল। কুমিল্লা-৭ আসনে বিএনপিতে সদ্য যোগ দেওয়া এলডিপির সাবেক মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ দলীয় প্রার্থী। বিদ্রোহী প্রার্থী চান্দিনা উপজেলার বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুল আলম শাওন। তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী বহিষ্কৃত বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আতাউর রহমান আঙ্গুর। এ আসনে দলের প্রার্থী কেন্দ্রীয় কমিটির ঢাকা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ। নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন। এখানে বিএনপির প্রার্থী সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম এবং সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন। এই আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতা মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীকে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে। শাহ আলম ও গিয়াস উদ্দিনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

নড়াইল-১ আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা ও জিয়া পরিষদের সদস্য অধ্যাপক বি এম নাগিব হোসেন। বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমকে। নড়াইল-২ আসনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম স্বতন্ত্র প্রার্থী। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এনপিপি ছেড়ে দলটিতে যোগ দেওয়া ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ।মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শ্রীনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মমিন আলী। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী সিরাজদীখান উপজেলা সভাপতি শেখ মো. আব্দুল্লাহ। মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. মহিউদ্দিন। এ আসনে দলের প্রার্থী কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন। মমিন ও মহিউদ্দিনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

শেরপুর-১ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মাসুদ। বিএনপির প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা। শেরপুর-৩ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী বহিষ্কৃত নেতা আমিনুল ইসলাম বাদশা। দল মনোনীত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল।

নেত্রকোনা-৩ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী দল থেকে বহিষ্কৃত দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া দুলাল। ধানের শীষ নিয়ে লড়ছেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালী।
গোপালগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এইচ খান মঞ্জু ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম সিরাজুল ইসলাম সিরাজ। বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে ডা. এ কে এম বাবরকে। গোপালগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী এস এম জিলানী। এখানে স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করছেন বহিষ্কৃত হাবিবুর রহমান হাবিব।

বাগেরহাট-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল। এখানে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী দুজন– সাবেক এমপি এম এ এইচ সেলিম ও জেলা বিএনপি নেতা প্রকৌশলী মো. শেখ মাসুদ রানা। বাগেরহাট-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন। বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক এমপি এম এ এইচ সেলিম। বাগেরহাট-৩ আসনে প্রার্থী শেখ ফরিদুল ইসলাম। বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক এমপি এম এ এইচ সেলিম। এখানে মাসুদ রানা ও এম এ এইচ সেলিমকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

নীলফামারী-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বহিষ্কৃত জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলমগীর সরকার। দলীয় প্রার্থী এ এইচ মো. সাইফুল্লাহ রুবেল।
দিনাজপুর-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাদিক রিয়াজ পিনাক। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ কালু নির্বাচন করছেন। দিনাজপুর-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী এ কে এম কামরুজ্জামান। বিদ্রোহী প্রার্থী কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য এ জেড এম রেজোয়ানুল হক এবং পার্বতীপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য এস এম জাকারিয়া বাচ্চু।

গাইবান্ধা-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী ফারুক আলম। স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি বহিষ্কৃত নাহিদুজ্জামান নিশাদ। রাজশাহী-৫ আসনে অধ্যাপক নজরুল ইসলামকে মনোনয়ন দিয়েছে দল। স্বতন্ত্র হিসেবে দলের ইসফা খায়রুল হক শিমুল এবং রেজাউল করিম নির্বাচন করছেন। শিমুল ও রেজাউলকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

কুষ্টিয়া-১ আসনে রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এখানে বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লা স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করছেন।

মানিকগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এস এম জিন্নাহ কবির। স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. তোজাম্মেল হক তোজাকে সম্প্রতি দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মানিকগঞ্জ-৩ আসনে দলের প্রার্থী আফরোজা খান রিতা। এখানে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আতাউর রহমান আতা বিদ্রোহী প্রার্থী। তাঁকেও দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সুনামগঞ্জ-৩ আসনে স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করছেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতা ও বহিষ্কৃত ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন। সুনামগঞ্জ-৪ আসনে নির্বাচন করছেন জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি বহিষ্কৃত দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন।ময়মনসিংহ-১ আসনে বিএনপির সালমান ওমর রুবেল স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। দলীয় প্রার্থী কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। ময়মনসিংহ-৩ আসনে দল থেকে বহিষ্কৃত ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান তায়েবুর রহমান হিরন, ময়মনসিংহ-৬ আসনে সাবেক এমপি শামসুদ্দিন আহমেদের ছেলে তানভীর আহমেদ রানা, ময়মনসিংহ-৭ আসনে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও এমপি আব্দুল খালেক সরকারের ছেলে আনোয়ার সাদাত, ময়মনসিংহ-৯ আসনে বিএনপির চারবারের সাবেক এমপি খুররম খান চৌধুরীর স্ত্রী হাসিনা খান চৌধুরী বিদ্রোহী প্রার্থী। ময়মনসিংহ-১০ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আক্তারুজ্জামান বাচ্চু। এখানে স্বতন্ত্র হিসেবে এবি সিদ্দিকুর রহমান নির্বাচন করছেন। ময়মনসিংহ-১১ আসনে ভালুকা উপজেলা বিএনপির সদ্য সাবেক আহ্বায়ক মো. মোর্শেদুল আলম স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করছেন। গতকাল বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সালমান ওমর রুবেল, এবি সিদ্দিকুর রহমান ও মোর্শেদুল আলমকে বহিষ্কারের কথা জানিয়েছে বিএনপি।

নোয়াখালী-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী জয়নুল আবদিন ফারুক। স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা কাজী মফিজুর রহমানকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। নোয়াখালী-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীম। স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক তানভীর উদ্দিন রাজিব এবং সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফজলুল আজিম। এই দুজনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

টাঙ্গাইল-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফকির মাহবুব আনাম স্বপন। স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ আলী। তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। টাঙ্গাইল-৩ আসনে দলের প্রার্থী ওবায়দুল হক নাসির। স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক এমপি ও বহিষ্কৃত লুৎফুর রহমান খান আজাদ। টাঙ্গাইল-৫ আসনে বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দীন টুকু দলীয় প্রার্থী। স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবালকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

  • শেয়ার করুন