প্রকাশিত: জানুয়ারি ২২, ২০২৬
বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক তৎপরতা নিয়ে Washington Post একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, অডিও রেকর্ডিংয়ের বরাত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকরা একসময় নিষিদ্ধ থাকা জামায়াতে ইসলামী-র সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের ইতিহাসে একাধিকবার নিষিদ্ধ হয়েছে। সর্বশেষ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-র পতনের আগে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দলটি নিষিদ্ধ ছিল। ঐতিহ্যগতভাবে দলটি শরিয়াহ আইনভিত্তিক শাসনব্যবস্থা এবং নারীদের কর্মঘণ্টা কমিয়ে তাদের ‘সন্তান লালন-পালনের দায়িত্ব পালনে সহায়তা’ করার মতো নীতির পক্ষে কথা বললেও, সাম্প্রতিক সময়ে তারা নিজেদের ভাবমূর্তি নরম করার চেষ্টা করছে। দলটি এখন মূলত দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানকে সামনে আনছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকায় কর্মরত মার্কিন কূটনীতিকরা পুনরুত্থানশীল এই ইসলামপন্থী আন্দোলনের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। গত ১ ডিসেম্বর ঢাকায় নারী সাংবাদিকদের সঙ্গে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এক মার্কিন কূটনীতিক বলেন, বাংলাদেশ ‘ইসলামপন্থার দিকে ঝুঁকছে’ এবং আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ‘আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো করবে’। ওই কূটনীতিক সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, “আমরা তাদের বন্ধু করতে চাই,” এবং জামায়াতের প্রভাবশালী ছাত্রসংগঠনের নেতাদের টকশোতে আনার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
তবে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র Monica Shie এক বিবৃতিতে জানান, ডিসেম্বরের বৈঠকটি ছিল নিয়মিত ও অফ-দ্য-রেকর্ড আলোচনা। সেখানে একাধিক রাজনৈতিক দল নিয়ে কথা হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র কোনো নির্দিষ্ট দলকে সমর্থন করে না। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের জনগণ যে সরকার নির্বাচন করবে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গেই কাজ করবে।”
এদিকে জামায়াতে ইসলামীর যুক্তরাষ্ট্র বিষয়ক মুখপাত্র মোহাম্মদ রহমান জানান, ব্যক্তিগত কূটনৈতিক বৈঠকে কথিত মন্তব্যের প্রেক্ষাপট নিয়ে তারা কোনো মন্তব্য করতে চান না।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার পতনের পর নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অর্থনীতিবিদ Muhammad Yunus-এর নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। আসন্ন নির্বাচনকে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতার পর বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পথে ফেরার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে মার্কিন কূটনৈতিক মহলে জামায়াতে ইসলামীকে ঘিরে এই আগ্রহ যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সম্পর্ককে আরও জটিল করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। Michael Kugelman, যিনি Atlantic Council-এর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক জ্যেষ্ঠ ফেলো, বলেন—এই ইস্যু যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে নতুন করে দূরত্ব সৃষ্টি করতে পারে। ভারত-পাকিস্তান সংঘাত, রাশিয়ার তেল কেনা, বাণিজ্য চুক্তির অগ্রগতি না হওয়া এবং মার্কিন শুল্ক আরোপ—এসব কারণে দুই দেশের সম্পর্ক আগেই চাপে রয়েছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার অপসারণের পর জামায়াতে ইসলামী ওয়াশিংটনে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে চারটি বৈঠক করেছে এবং ঢাকায় আরও কয়েকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। দলের শীর্ষ নেতা সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তরের প্রধান Jamieson Greer-এর সঙ্গেও ভার্চুয়াল বৈঠক করেন।
তবে এসব বৈঠক নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেছে, ঢাকায় অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলো ছিল ‘নিয়মিত কূটনৈতিক কার্যক্রমের’ অংশ। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তরও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ns newage