প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬
লেবাননের শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ-কে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়েছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়া-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা চালায়, তখন হিজবুল্লাহর যোদ্ধাদের প্রস্তুত করা হচ্ছে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিপ্লবী গার্ডের কয়েকজন কর্মকর্তা সম্প্রতি ইরান থেকে লেবাননে পৌঁছেছেন। তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং যুদ্ধ প্রস্তুতি ত্বরান্বিত করা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিপ্লবী গার্ডের কমান্ডাররা হিজবুল্লাহর যোদ্ধাদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করছেন। সম্প্রতি বাক্কা উপত্যকায় হিজবুল্লাহর মিসাইল ইউনিটের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে, যেখানে ইসরায়েল বিমান হামলা চালায়। এই হামলায় অন্তত ৮ হিজবুল্লাহ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েলের সূত্র বলছে, হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা যে কোনো সময় বড় ধরনের অভিযান শুরু করতে পারে। ইরানের মিত্রকে শক্তিশালী করে প্রতিরক্ষা ও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এক মাস ধরে ইরানের চারপাশে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আশঙ্কা করা হচ্ছে, মার্কিন সেনারা যে কোনো সময় ইরানে হামলা চালাতে পারে। এই পরিস্থিতিতে দখলদার ইসরায়েলও যুক্ত হতে পারে।
ইরানও তাদের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিজবুল্লাহকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। হিজবুল্লাহর সামরিক প্রশিক্ষণ, রকেট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও যোদ্ধাদের প্রস্তুতি ত্বরান্বিত করা হচ্ছে।
ইসরায়েলি কান পাবলিক ব্রডকাস্টার জানিয়েছে, তাদের গোয়েন্দারা হিজবুল্লাহর রকেট ইউনিটের কার্যক্রম বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দেখেছেন। সূত্রের ধারণা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র যদি হামলা চালায়, তাহলে হিজবুল্লাহর রকেট ইউনিট প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলে হামলা চালাবে।
বিশ্ব রাজনীতি ও সামরিক কূটনীতির এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে লেবানন, ইরান ও ইসরায়েলের সম্পর্ককে নতুনভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সব পক্ষই তাদের সামরিক সক্ষমতা বাড়িয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হঠাৎ কোনো সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলতে পারে। তথ্যসূত্র : আল-আরাবিয়া
ns coll