প্রকাশিত: মার্চ ২, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার বিরুদ্ধে আত্মরক্ষায় তেহরানকে সমর্থন জানিয়েছে বেইজিং। সোমবার (২ মার্চ) মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ফোনালাপে তার ইরানি সমকক্ষকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ডজনখানেক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা শুরুর পর দেশটির কয়েকশ মানুষ নিহত হয়েছেন। এর জবাবে তেহরান ইসরায়েল, উপসাগরীয় দেশগুলো এবং সাইপ্রাসে একটি ব্রিটিশ ঘাঁটির দিকে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির খবরে বলা হয়, ওয়াং আব্বাস আরাগচিকে জানান, বেইজিং চীন ও ইরানের ঐতিহ্যগত বন্ধুত্বকে গুরুত্ব দেয়, ইরানের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় মর্যাদা রক্ষায় সমর্থন করে এবং ইরানের বৈধ অধিকার ও স্বার্থ সুরক্ষায় সমর্থন জানায়।
সিসিটিভির উদ্ধৃতি অনুযায়ী ওয়াং বলেন, ‘চীন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি এড়াতে এবং সংঘাতকে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া থেকে প্রতিরোধ করতে আহ্বান জানিয়েছে।’
ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সোমবারই পৃথক এক ফোনালাপে ওয়াং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘ইচ্ছাকৃতভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ উসকে দিয়ে জাতিসংঘ সনদের উদ্দেশ্য ও নীতিমালা লঙ্ঘনের’ অভিযোগ তোলেন।
সিসিটিভির খবরে বলা হয়, ওয়াং ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদিকে বলেন, ‘চীন ন্যায়বিচার সমুন্নত রাখা, শান্তির জন্য প্রচেষ্টা চালানো এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধে গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে ইচ্ছুক।’
এ ছাড়া ফ্রান্সের জ্যাঁ-নোয়েল বারোর সঙ্গে আরেকটি ফোনালাপে ওয়াং সতর্ক করেন, বিশ্ব ‘জঙ্গলের আইনে প্রত্যাবর্তনের’ ঝুঁকিতে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রধান শক্তিগুলো তাদের সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের ভিত্তিতে অন্য দেশগুলোর ওপর ইচ্ছামতো হামলা চালাতে পারে না। ইরানের পারমাণবিক ইস্যুটি শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের পথে ফিরে আসতে হবে।’