প্রকাশিত: মার্চ ৮, ২০২৬
শনিবার রাতে ইরানের তেল স্থাপনায় প্রথমবারের মতো হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এতে, ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সতর্ক করে দিয়েছে যে, তেল স্থাপনায় ইসরাইলের হামলার পর তেহরানে অ্যাসিড বৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রেড ক্রিসেন্টের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘তেলের গুদামে বিস্ফোরণের ফলে বিপুল পরিমাণ বিষাক্ত হাইড্রোকার্বন, সালফার ও নাইট্রোজেন অক্সাইড বায়ুমণ্ডলে ও মেঘের মধ্যে প্রবেশ করে। ফলে বৃষ্টি হলে সেই বৃষ্টি অত্যন্ত বিপজ্জনক হয় এবং তাতে অ্যাসিডের বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে।’
রোববার ভোরে এক বিজ্ঞপ্তিতে, মানবিক গোষ্ঠীটি তেহরানের বাসিন্দাদের সতর্ক করে বলেছে, গত রাতের বোমা হামলার পর তাদের দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুস এবং ত্বকের রোগের ঝুঁকি রয়েছে।
এদিকে, প্রায় দশ ঘণ্টা পার হয়ে সকাল হওয়ার পরও এখনও আগুনে জ্বলছে বলে জানাচ্ছে বিবিসি ফার্সি বিভাগ।
এনজিওটি তেহরানের বাসিন্দাদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, বৃষ্টি থামার পরেও তারা যেন তাদের ঘর থেকে বের না হয় কারণ ‘গরম মাটি বা পৃষ্ঠ থেকে অ্যাসিডের ফোঁটা বাষ্পীভবনের ফলে শ্বাস-প্রশ্বাসের বাতাসে বিষাক্ত পদার্থের ঘনত্ব কয়েকগুণ বেড়ে যায়।’
সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়, তাদের খাবার যেন পরিষ্কার করা হয়, এমনকি যদি তা সিল করা থাকে, কারণ কন্টেইনারের দেয়ালে থাকা অণুবীক্ষণিক অ্যাসিডিক কণা খোলা হলে তা দূষিত করতে পারে।
রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি নাগরিকদের সম্ভব হলে তাদের জল পরিশোধন ব্যবস্থা প্রতিস্থাপন করতে বলেছে, কারণ বিষাক্ত জল পুরানো ফিল্টারগুলিকে ধ্বংস করতে পারে।
এদিকে, ভয়াবহ ফুটেজে দেখা গেছে যে উত্তর-পশ্চিম তেহরানের শাহরান তেল ডিপো থেকে একটি বিশাল আগুনের কুণ্ডলী জ্বলছে যা রাতের আকাশকে গ্রাস করে ফেলছে।
শনিবার (৭ মার্চ) দিবাগত রাতে প্রথমবারের মতো ইরানের তেলের ডিপোগুলোতে হামলা চালিয়েছে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। অন্তত ৩০টি তেলের ডিপো ধ্বংস হয়েছে। এতে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। হামলা হয়েছে একটি পানি বিশুদ্ধকরণ (ডিস্যালিনেশন) প্ল্যান্টেও।
সূত্র: ডেইলি মেইল