ইসলামী ব্যাংকে ওএসডি সংখ্যা ৪৯৫৩, ছাঁটাই ২০০ কর্মী

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৫

  • শেয়ার করুন

ইসলামী ব্যাংকে নিয়োগ–সংক্রান্ত অনিয়ম ও বিশেষ যোগ্যতা মূল্যায়ন পরীক্ষাকে ঘিরে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। গত শনিবার আয়োজিত পরীক্ষায় অংশ নেননি ৪ হাজার ৯৫৩ জন কর্মী। এর ফলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি চাকরি বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আরও ২০০ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

বিক্ষোভ ও আইনগত পদক্ষেপ

ওএসডি হওয়া কর্মীদের মধ্যে চট্টগ্রামের পটিয়া এলাকায় রবিবার ও সোমবার বিক্ষোভ হয়। তবে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। এর আগে গত ২১ আগস্ট ইসলামী ব্যাংকের চাক্তাই শাখার সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মো. জিয়া উদ্দিন নোমান বিশেষ মূল্যায়ন পরীক্ষা বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে বাংলাদেশ ব্যাংক বিষয়টি পরীক্ষা করে ২৫ সেপ্টেম্বর জানায়, ইসলামী ব্যাংক একটি বেসরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান হওয়ায় কর্মী নিয়োগ ও মূল্যায়ন ব্যাংকের নিজস্ব এখতিয়ারভুক্ত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ইসলামী ব্যাংককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক চাইলে অংশগ্রহণ না করা কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে।

নিয়োগের অনিয়ম

ব্যাংকের তথ্যানুসারে, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে ২১ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন। এর মধ্যে ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ১১ হাজার কর্মী নিয়োগ পান কোনো বিজ্ঞপ্তি বা পরীক্ষা ছাড়াই। শুধু চট্টগ্রাম জেলায় এ সময়ে নিয়োগ পেয়েছেন ৭ হাজার ২২৪ জন, যার মধ্যে পটিয়ার বাসিন্দা আছেন ৪ হাজার ৫২৪ জন। ওই সময় ইসলামী ব্যাংক এস. আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে ছিল।

ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. কামাল উদ্দীন জসীম জানান, নীতিমালা বহির্ভূতভাবে নিয়োগ পাওয়া এসব কর্মীর যোগ্যতা যাচাইয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়া হয়। অংশ না নেওয়া কর্মীদের ওএসডি করা হয়েছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে কিছু কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়েছে।

সনদ যাচাই ও ব্যাংকের অবস্থান

ড. কামাল আরও জানান, অনেকের একাডেমিক সনদ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিজিসি ট্রাস্ট ও পোর্ট সিটি বিশ্ববিদ্যালয় এদের সনদ যাচাই করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। জাল সনদের প্রমাণ পাওয়া গেলে ইতোমধ্যে কয়েকজনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর ইসলামী ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ব্যাংকটি শরীয়াহ–সম্মতভাবে রাষ্ট্র ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার সব নিয়ম মেনে পরিচালিত হচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিয়োগ–সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে যারা সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছেন, তাদের বিভ্রান্তিমূলক কর্মকাণ্ডে কান না দেওয়ার জন্য গ্রাহক ও শুভানুধ্যায়ীদের আহ্বান জানানো হয়।

  • শেয়ার করুন