ইরানে বিক্ষোভকারীরা ‘খোদার শত্রু’, মৃত্যুদণ্ডের হুঁশিয়ারি সরকারের

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১০, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

দুই সপ্তাহ ধরে চলা ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে ইরান সরকার আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মোভাহেদি আজাদ সতর্ক করে বলেছেন, যারা বিক্ষোভে অংশ নেবেন, তাদের ‘খোদার শত্রু’ হিসেবে গণ্য করা হবে। ইরানের আইনে এ অভিযোগের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, শুধু বিক্ষোভে অংশ নেওয়াই নয়, যারা বিক্ষোভকারীদের সহায়তা করেছে বা উৎসাহ দিয়েছে, তারাও একই অভিযোগে অভিযুক্ত হবে।

ইরানের দণ্ডবিধির ১৮৬ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, কোনো দল বা সংগঠন যদি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র অবস্থান নেয়, আর জেনে-বুঝে তাদের সহায়তা করা ব্যক্তিদেরও ‘মোহারেব’ (খোদার শত্রু) হিসেবে ধরা যেতে পারে; এমনকি তারা সরাসরি অস্ত্র হাতে না নিলেও।

আইনের ১৯০ নম্বর ধারায় ‘মোহারেব’ অপরাধের শাস্তি অত্যন্ত কঠোর। এর মধ্যে রয়েছে মৃত্যুদণ্ড, ফাঁসি, ডান হাত ও বাঁ পা কেটে ফেলা, অথবা স্থায়ীভাবে দেশের ভেতরে নির্বাসন।

এই কড়াকড়ি পদক্ষেপ এমন এক সময়ে নেওয়া হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক মহল ইরানকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে।

সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নষ্ট করা এবং বিদেশি প্রভাব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলে কোনো রকম ছাড় দেওয়া হবে না। দ্রুত অভিযোগপত্র দেওয়া এবং কঠোরভাবে বিচার শেষ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

মার্কিন মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৫ জন নিহত হয়েছেন এবং ২ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। তেহরানে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রয়েছে এবং বৃহস্পতিবার থেকে ফোনলাইনও কার্যত অচল।

এদিকে নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি জনগণকে রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বিক্ষোভকারীদের ইরানের পুরাতন সিংহ-সূর্য সংবলিত পতাকা বহনের ডাক দেন।উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানি মুদ্রা রিয়ালের বড় ধরনের মূল্য হ্রাসের পর এই বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে এটা সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়।

  • শেয়ার করুন